তালতলীতে স্কুল শিক্ষক স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার স্ত্রী

1

মাহমুদুল হাসান, বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলীতে স্কুল শিক্ষক মাহাতাবের নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগি পরিবারটি সাংবাদকর্মীদের কাছে এ অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগি পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের আগাপড়া এলাকার নুরুল ইসলামের মেয়ে আয়শার সাথে পাশবর্তী নলবুনিয়া এলাকার মৃত্যু গনি তালুকদারের ছেলে স্কুল শিক্ষক মাহাতাবের সাথে প্রায় এক যুগ আগে প্রেমের মাধ্যমে বিয়ে হয়। বিয়ের পড় মাহাতাব লেখাপড়া করতো। এই লেখাপড়ার সকল টাকা আয়শার বাবার বাড়ি থেকে দেওয়া হয়।

পরে লেখাপড়া শেষ করে নলবুনিয়া আগাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক(বিনাবেতনে) হিসেব চাকরি হয়। চাকরির কিছু দিন পর ঐ স্কুলের এক ছাত্রীর সাথে মাহতাবের পরকিয়া শুরু হয়। কিন্তু দুই পরিবার জানাজানি হয়ে গেলে ঐ স্কুল ছাত্রীর বিয়ে হয় অন্যত্র। সেখানেও মাহতাব ফোনে সব সময় যোগাযোগ রাখতো। এমন কি সেই মেয়েকে তার স্বামীকে ডিভোর্স দেওয়াইছে মাহতাব। এর পরে স্ত্রী আয়শার উপর শুরু হয় একের পরে এক অত্যাচার।

আয়শাকে বিদায় দিতে মাহতাব শুরু করে নাটক নিজের লিঙ্গ ছুড়ি দিয়ে নিজেই কেটে স্ত্রী উপর দোষ চাপায়। পরে এ ঘটনায় আয়শার বিরুদ্ধে মামলা দেয় মাহাতাব। মামলা চলমান সময়ের ভিতরে মাহাতাব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পায়। এই মামলা ছয় মাস চলমান অবস্থায় স্থানীয় ভাবে আয়শাকে নেওয়ার জন্য শালিশ মিমাংশা বসেন ও পরে মামলা তুলে ফেলে মাহাতাব। কিন্তু সমাজের ভয়ে স্ত্রী আয়শাকে নতুন করে স্ত্রী মর্যাদা দিতে লুকোচুরি খেলে।

এই সময় স্ত্রীকে নিয়ে তিনি বিভিন্ন স্থানে ঘুড়ে বেড়ায়। কিছুদিন পরে মাহতাব স্ত্রী আয়শাকে এড়িয়ে চলে। আর ঔ স্কুল ছাত্রীর সাথে ফের পরকীয়া শুরু হয়। এমন অবস্থায় গতকাল ২১জুন সকালে মাহতাবের বাড়িতে আয়শা গেলে তার ভাইয়ের ছেলে নাসিম(২০)সহ তিনি মারধর করে বাড়ির আঙিনায় ফেলে রাখে। এর পরে ভুক্তভোগি পরিবার তালতলী থানায় খবর দিলে পুলিষ ঘটনাস্থান থেকে স্ত্রী আয়শাকে উদ্ধার করে স্বজনদের মাধ্যমে পটুয়াখালী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল ফরাজী বলেন গত প্রায় ৬ মাস আগে লিংঙ্গ কাটার মামলার পরে স্থানীয় ভাবে মিমাংশা করে দিয়েছেন । পরে দুই পক্ষ আমার কাছে এসে বলে আমাদের মিলমিস হয়ে গেছে। এখন মামলা তুলে ফেলছি। এরপরে গত ২১ জুন ফের সমস্য হয় তাদের ভিতরে।

এঘটনায় স্কুল শিক্ষক মাহতাব তালুকদার বলেন,আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে তা মিথ্যা। আমার লিঙ্গ কেটা মামলা তাদের অনুরোধে উঠানো হয়েছে। সে আমার স্ত্রী এখন আর নেই তাকে র্ধম অনুসারে দুইটি তালাক দেওয়া হয়েছে। তবুও সে আমার বাড়িতে গেলে তাকে কোনো ধরণের মারধর করা হয়নি।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন,এবিষয়ে খবর দিলে ঘটনাস্থানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মাহাতাবের স্ত্রী আয়শাকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।